১৪ বছরের ছেলে আর ৪০ বছরের নারীর গল্প
১৪ বছরের শুভ প্রতিদিন বিকেলে মাঠে যায় ফুটবল খেলতে। ছেলেটি চঞ্চল, কৌতূহলী এবং দারুণ কল্পনাপ্রবণ। ওর বাবা-মা চাকরিজীবী, সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত। তাই বিকেলটাই শুভর সবচেয়ে প্রিয় সময়—সেখানে সে মুক্ত, স্বতঃস্ফূর্ত, আর নিজের মতো।
নারীটি মুচকি হেসে উত্তর দেন, “সব সময় না, কিন্তু অনেকটা সময় একাই থাকি। আমি রূপা খালামণি। তুমি?”
“আমি শুভ। ফুটবল খেলতে যাই।”
রূপা খালামণি ৪০ বছর বয়সী, একজন প্রাক্তন স্কুলশিক্ষিকা। ব্যক্তিগত কারণে স্কুল ছেড়ে দিয়েছেন। সংসার বলতে একাই আছেন, সন্তান নেই, স্বামী বিদেশে। জীবনের কিছু শূন্যতা তিনি বই পড়ে আর গাছের যত্নে কাটান।
ধীরে ধীরে শুভ আর রূপার মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। শুভ প্রায়ই খেলার পরে রূপার ছাদে যায়, নানা প্রশ্ন করে—“আপনি ছোটবেলায় কী হতে চেয়েছিলেন?”, “পৃথিবীর শেষ কোথায়?”, “মানুষ কেন দুঃখ পায়?”
রূপা খালামণি ওকে ধৈর্য ধরে শোনান গল্প—তিন মহাদেশে ঘোরা, প্রিয় ছাত্রদের কথা, ছোটবেলার ভুলভ্রান্তি। শুভ মুগ্ধ হয়ে শোনে। তারা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে শেখে—শুভ শেখে ধৈর্য, মানবতা, আর রূপা খালামণি ফিরে পান শিশুসুলভ বিস্ময়, আনন্দ আর জীবনের প্রাণচাঞ্চল্য।
এই বন্ধুত্ব আশেপাশের মানুষের কাছে অবাক লাগলেও, তারা নিজেরা জানে এটি কতটা নির্মল। কোনো সন্দেহ, কোনো গোপন উদ্দেশ্য নেই—শুধু মন থেকে মন, গল্প থেকে গল্প, সময় থেকে সময়ে এগিয়ে চলা।
একদিন শুভ বলে, “খালামণি, আপনি আমার স্কুলে গিয়ে একটা গল্প বলবেন? আমাদের স্যাররা এমনভাবে বলেন না আপনি যেমন বলেন।” রূপা হেসে বলেন, “চেষ্টা করবো। তুমি যদি পাশে থাকো।”
এই গল্প আমাদের শেখায়—বয়স শুধু একটি সংখ্যা। মন যদি খোলা থাকে, হৃদয় যদি গ্রহণ করতে চায়, তবে দুই প্রজন্মের মধ্যে গড়ে উঠতে পারে এক গভীর, অর্থপূর্ণ বন্ধন।
শুভ আর রূপার এই বন্ধুত্ব আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবনের প্রতিটি পর্বে শেখা যায়, ভালোবাসা যায়, আর বন্ধুত্ব গড়ে তোলা যায়, যদি আমরা আগ্রহী হই শুনতে, জানতে, আর মেনে নিতে একে অপরকে।

Comments
Post a Comment